বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে মৃন্ময়ী। সঙ্গী বলতে এক কাপ চা আর মাথার উপরের মেঘলা আকাশটা।
'বিশেষ বিকেল'
জান্নাতুল ফেরদৌস সামিয়া
আশ্বিনের বিকেলে পুরনো পাঁচতলা দালানের দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে মৃন্ময়ী। সঙ্গী বলতে এক কাপ চা আর মাথার উপরের মেঘলা আকাশটা। নিঃসঙ্গতার উত্তম সঙ্গী বটে! চায়ের কাপটায় এক চুমুক দিয়ে মৃন্ময়ী কিছুক্ষণ চেয়ে রইল আকাশের দিকে। নীল আকাশের পানে চেয়ে তার বোধহয় প্রেমিকা হতে ইচ্ছে জাগে; বোধহয় মেঘের মতো অভিমান করে বৃষ্টি হয়ে ঝরতে ইচ্ছা করে রাগে।
কিন্তু সে চেষ্টা যে তার বৃথা! অভিমানে আঁধার দিলে, পাখিরা ফিরে যায় আপন নীড়ে। কিন্তু মৃন্ময়ী! সে যেন পূর্ণতা পায়–শূন্যতার ভিড়ে। কল্পনাবিভর মৃন্ময়ী ভাবে,আকাশটা তার নিজস্ব হলে কতোই না ভালো হতো। একখন্ড আকাশ পেলে বোধহয় বুকচাপা অভিমান গুলো দীর্ঘশ্বাসে ছেড়ে দিতে পারতো।
কিছুক্ষণ বাদেই করিডোর থেকে শোরগোল শোনা গেল। মৃন্ময়ীর বুঝতে বাকি রইলো না তাকে কক্ষে না পাওয়ার দরুণই এত হাঁকডাক। বরাবরের মতো দুজন সেবিকা এসে টেনে হিঁচড়ে বদ্ধ সেই করিডোরটায় নিয়ে গেলেন তার ভাবান্তর দেহটিকে। আর মৃন্ময়ী! সে তো বারংবার পুরনো কথায় আওড়ে চলেছে— 'কোন গল্পই জীবনের মতো না আবার কোন জীবনই গল্পের মতো না।'
Post a Comment